মূল কনটেন্টে যান

إلى أولياء الأمور

অভিভাবকদের প্রতি

সন্তানকে একজন আদর্শ তালেবে ইলম ও আলেম হিসেবে গড়ে তুলতে মাদরাসার পাশাপাশি অভিভাবকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জামিয়ার সম্মানিত অভিভাবকদের জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো পালনীয়।

প্রথমত

সম্মানিত অভিভাবকের পালনীয় নিয়মাবলি

  1. জামিয়ার নেসাব ও নেযাম সম্পর্কে যথাসাধ্য ধারণা গ্রহণ এবং এর প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখা।

  2. জামিয়ার তালীম, তারবিয়ত, দাওয়াত ও খেদমতে খালকসহ সার্বিক কার্যক্রমে আন্তরিক সহযোগিতা করা।

  3. জামিয়ায় অধ্যয়নরত অবস্থায় শিক্ষার্থীকে অন্য কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত না করা এবং শিক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উস্তাদ ও কর্তৃপক্ষের পরামর্শ গ্রহণ করা।

  4. সন্তানকে অসৎ সঙ্গ, অনুপযুক্ত পরিবেশ ও অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা থেকে দূরে রাখা।

  5. শিক্ষার্থীর হাতে অতিরিক্ত টাকা-পয়সা না দেওয়া; প্রয়োজনীয় সামগ্রী অভিভাবক নিজে বা জামিয়ার মাধ্যমে সরবরাহ করা।

  6. সন্তানকে সাদাসিধে ও পরিমিত জীবনযাপনে অভ্যস্ত করা এবং অতি বিলাসিতা থেকে বিরত রাখা।

  7. জামিয়ার শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো অতিরিক্ত শিক্ষা বা পরীক্ষার ব্যবস্থা না করা।

  8. সন্তানের সামনে পিতা-মাতার পারস্পরিক বিরোধ প্রকাশ না করা এবং তার পড়াশোনার বিষয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ঐকমত্য বজায় রাখা।

  9. সন্তানের পড়াশোনা ও চরিত্র গঠনের বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা এবং প্রয়োজনীয় সময়ে জামিয়ার শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা।

দ্বিতীয়ত

অভিভাবকদের জন্য বিশেষ কিছু নির্দেশনা

সন্তানকে একজন আদর্শ তালেবে ইলম হিসেবে গড়ে তুলতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন।

  • অসৎ সঙ্গ থেকে রক্ষা করা
  • শরয়ী পর্দার প্রতি যত্নশীল হওয়া
  • সাদাসিধে জীবনযাপনে অভ্যস্ত করা
  • অতিরিক্ত টাকা-পয়সা না দেওয়া
  • অনুপযুক্ত আত্মীয়তার প্রভাব থেকে সতর্ক থাকা
  • অনুপযুক্ত পত্র-পত্রিকা ও বিনোদন থেকে দূরে রাখা
  • দীনী শিক্ষার প্রতি পূর্ণ মনোযোগ
  • সন্তানদের শিক্ষার ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য রাখা
  • সন্তানের সামনে পারিবারিক বিরোধ প্রকাশ না করা
  • সন্তানের প্রতি নিয়মিত নজর রাখা

মনে রাখতে হবে — সন্তানের উত্তম ভবিষ্যৎ গঠনে অর্থ-সম্পদের চেয়ে তার ইলম, আমল, আখলাক ও সৎ চরিত্র অধিক মূল্যবান।