মেধা, কৃতিত্ব, আর্থিক অসচ্ছলতা ও বিশেষ প্রয়োজন বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের বৃত্তি ও সহায়তা।
জামিয়া উম্মুল কুরা আল-ইসলামিয়া বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মেধা, কৃতিত্ব, আর্থিক অসচ্ছলতা ও বিশেষ প্রয়োজন বিবেচনায় তাদের শিক্ষা কার্যক্রমে উৎসাহ ও সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের বৃত্তি ও অনুদানের ব্যবস্থা রয়েছে। মেধা ও কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে কিতাব, নগদ অর্থ ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পাশাপাশি আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য যাকাত ফান্ড থেকে বোর্ডিংয়ের খরচ বহনের ব্যবস্থা রয়েছে।
যেসব সহায়তা রয়েছে
বৃত্তি ও সহায়তার ধরনসমূহ
মেধাবৃত্তি
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করা এবং মেধার যথাযথ মূল্যায়নের লক্ষ্যে পরীক্ষায় ভালো ফলাফলকারী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি প্রদান করা হয়।
মেধাবী ও কৃতিত্বপূর্ণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজনীয় কিতাব প্রদান করা হয়, যাতে অধ্যয়নের আগ্রহ বাড়ে ও জ্ঞানার্জনের পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হয়।
দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থী বৃত্তি
আর্থিকভাবে অসচ্ছল কিন্তু মেধাবী ও অধ্যবসায়ী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষার্থীর পারিবারিক আর্থিক অবস্থা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে এই বৃত্তি প্রদান করা হয়।
হিফজ বৃত্তি
পবিত্র কুরআন হিফজে আগ্রহী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে হিফজ বিভাগে বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। হিফজের অগ্রগতি, নিয়মিত সবক-আমুখতা, পরীক্ষার ফলাফল ও শিক্ষার্থীর সামগ্রিক যোগ্যতার ভিত্তিতে বৃত্তি প্রদান করা হয়।
এতিম শিক্ষার্থী সহায়তা
এতিম শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও লালন-পালনে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে গোরাবা ফান্ডের পক্ষ থেকে বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। যোগ্য এতিম শিক্ষার্থীদের ভর্তি, শিক্ষা উপকরণ, আবাসন, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা প্রদান করা হয়।
যাকাতভিত্তিক শিক্ষা সহায়তা
যাকাতের উপযুক্ত দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতার লক্ষ্যে শরিয়াহসম্মত পদ্ধতিতে যাকাতভিত্তিক শিক্ষা সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে উপযুক্ত শিক্ষার্থীদের এই সহায়তার আওতায় আনা হয়।
আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য যাকাত ফান্ড থেকে বোর্ডিংয়ের খরচ বহনের ব্যবস্থা রয়েছে।
আবাসিক শিক্ষার্থী সহায়তা
আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল এবং শিক্ষা চালিয়ে যেতে সমস্যার সম্মুখীন হয়, তাদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজন ও যোগ্যতা বিবেচনা করে আবাসন, খাবার ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করা হয়।
শিক্ষার্থীদের সুস্থতা ও কল্যাণের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানের সামর্থ্য ও নীতিমালা অনুযায়ী করা হয়, যাতে অসুস্থতার কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।
বৃত্তির যোগ্যতা
বৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মেধা, পরীক্ষার ফলাফল, নিয়মিত উপস্থিতি, শৃঙ্খলা, উত্তম আচার-আচরণ, আর্থিক অবস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করা হয়। প্রতিটি বৃত্তির জন্য আলাদা যোগ্যতার মানদণ্ড থাকতে পারে।
বৃত্তির পরিমাণ
বৃত্তির ধরন ও শিক্ষার্থীর যোগ্যতার ভিত্তিতে বৃত্তির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী মাসিক, ত্রৈমাসিক, ষান্মাসিক অথবা এককালীনভাবে বৃত্তি প্রদান করা হতে পারে।
আবেদন প্রক্রিয়া
বৃত্তি পাওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত তথ্য, অভিভাবকের তথ্য এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আর্থিক অসচ্ছলতার প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য শিক্ষার্থীদের বৃত্তির জন্য নির্বাচন করা হবে।
বৃত্তির জন্য আবেদন করতে চান?
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জামিয়ার অফিসে আবেদন জমা দিন, অথবা যোগাযোগ করুন।